উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অকপটে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে তলানিতে থাকা বিনিয়োগে বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থার ওপর জনগণের কমে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনার আশ্বাসও দিয়ে তিনি বলেন, জিডিপির অনুপাতে কর আদায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়া, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর মতো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। গতকাল ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইউআইইউর জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরাম এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া কর কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কাউকে পেছনে ফেলে বা বাইরে রেখে সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি করেছে। জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো জরুরি। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন দেশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর, গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের খরচ বেশি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাত জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়কে অস্থির করে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনও প্রতিবছর অর্থনৈতিক ক্ষতির নতুন হিসাব যোগ করছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে বৈশ্বিক এসব ধাক্কার সরাসরি প্রভাব পড়ে বলেও জানান তিনি। এর প্রভাব বাজারে পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার এবং দেশের কারখানাগুলোর রপ্তানি আদেশে দেখা যায়।
KholaBoi শিক্ষা, পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভান্ডার
