QUOTATIONS FOR TEACHERS: পর্ব – ১০
English Quotation:
“Tell me and I forget. Teach me and I remember. Involve me and I learn.” – Benjamin Franklin
বাংলা অনুবাদ:
“আমাকে বলো, আমি ভুলে যাব। আমাকে শেখাও, আমি মনে রাখব। আমাকে যুক্ত করো, আমি শিখব।” – বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ: এই কালজয়ী উক্তিটি গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—শিক্ষার্থীর নিষ্ক্রিয়তা। ক্লাসে শিক্ষক যখন শুধু বক্তৃতা দেন, তখন তা শিক্ষার্থীর মস্তিষ্কে খুব অল্প সময়ের জন্যই স্থায়ী হয়। কিন্তু যখন কোনো কাজের মাধ্যমে বা বাস্তব অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে শিক্ষার্থীকে পাঠের সাথে সরাসরি যুক্ত (Involve) করা হয়, তখন সেই শিক্ষা তার জীবনের অংশে পরিণত হয়। প্রকৃত শিক্ষা হলো একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, একমুখী কোনো ভাষণ নয়।
শিক্ষক: আকবর আলী (কাল্পনিক নাম) একটি আধা-শহুরে স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক। তাঁর কাছে ভূগোল মানে শুধু মুখস্থ করার বিষয় ছিল না, বরং পৃথিবীর সাথে পরিচিত হওয়ার এক দারুণ রোমাঞ্চ। তিনি বিশ্বাস করতেন, চার দেয়ালের ভেতর আটকে রেখে বিশ্বকে চেনানো যায় না।
শিক্ষার্থী: রাফসান (কাল্পনিক নাম) রাফসান ক্লাসের সবচেয়ে চঞ্চল ছেলে। এক জায়গায় পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকা তার জন্য রীতিমতো শাস্তির সমান। বইয়ের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকলে তার ঘুম পায়। ক্লাসে মনোযোগ না দেওয়ার কারণে প্রায়শই সে অন্য শিক্ষকদের বকা খায়। অনেকেই ধরে নিয়েছে, ছেলেটা পড়াশোনায় খুব দুর্বল।
অনুপ্রেরণার গল্প: “মাঠের মাঝেই মানচিত্র” সেদিন আকবর স্যারের ক্লাসে পড়ানোর কথা ছিল মানচিত্রের ‘স্কেল’ ও ‘দিকনির্ণয়’। তিনি খেয়াল করলেন, রাফসান বরাবরের মতোই জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে আর পেনসিল দিয়ে বেঞ্চে টোকা দিচ্ছে। স্যার তাকে বকা দিলেন না। বরং হঠাৎ বই বন্ধ করে বললেন, “চলো, আজ আমরা সবাই মাঠে যাই। আজ আমরা আমাদের স্কুলের একটি মানচিত্র তৈরি করব।”
সবাই অবাক! মাঠে গিয়ে স্যার ছাত্রদের কয়েকটি দলে ভাগ করে দিলেন। রাফসানের হাতে একটি মেজারিং টেপ (ফিতা) আর একটি কম্পাস ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “রাফসান, তোমার দলের দায়িত্ব হলো স্কুল ভবনের দৈর্ঘ্য মাপা এবং কম্পাস দিয়ে উত্তর দিক ঠিক করে মানচিত্রের খসড়া তৈরি করা। তুমি পারবে না?”
যে রাফসান ক্লাসে সবসময় ঝিমোয়, সে হঠাৎ করেই যেন প্রাণ ফিরে পেল। সে দৌড়ে গিয়ে বন্ধুদের সাথে নিয়ে মাপামাপি শুরু করল। কত ফুটে এক ইঞ্চি ধরলে খাতায় পুরো স্কুলের ছবি আঁকা যাবে—এই হিসাব মেলাতে গিয়ে সে এমনভাবে মেতে উঠল যে, স্কেল বা অনুপাতের কঠিন সূত্রগুলো তার কাছে খেলার নিয়মের মতো সহজ মনে হতে লাগল। সেদিন শুধু রাফসান নয়, পুরো ক্লাস আনন্দে মেতে উঠে শিখেছিল মানচিত্রের খুঁটিনাটি।
পরবর্তী পরীক্ষায় ভূগোলে রাফসান ক্লাসের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। কারণ সে সূত্রগুলো মুখস্থ করেনি, সে নিজের হাতে সেগুলো প্রয়োগ করেছিল।
ইতিবাচক বার্তা: রাফসানের মতো অনেক চঞ্চল বা অমনোযোগী শিক্ষার্থী আমাদের ক্লাসরুমগুলোতে থাকে, যাদেরকে আমরা প্রায়ই ‘দুর্বল’ বা ‘অবাধ্য’ বলে রায় দিয়ে দিই। কিন্তু আকবর স্যারের মতো শিক্ষকেরা জানেন, সমস্যাটি শিক্ষার্থীর মেধার নয়, সমস্যাটি শেখানোর পদ্ধতির। যখন একজন শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে যুক্ত করা হয়, তখন তার ভেতরের শক্তি ও কৌতূহল দুটোই জেগে ওঠে। শিক্ষকের সার্থকতা এখানেই—বইয়ের শুষ্ক পাতাকে বাস্তব জীবনের সাথে জুড়ে দেওয়া।
আপনার শিক্ষাজীবনে কি এমন কোনো শিক্ষক ছিলেন, যিনি শুধু লেকচার না দিয়ে আপনাকে হাতে-কলমে কোনো কিছু শিখিয়েছিলেন? কমেন্ট বক্সে তাঁর কথা আমাদের জানান। ‘খোলাবই’-তে আমরা সেইসব সৃজনশীল শিক্ষকদের গল্প ছড়িয়ে দিতে চাই।
