ঢাকা, ২০ অক্টোবর ২০২৬। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে। শিক্ষা বোর্ড সূত্র বলছে, ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর বাইরে আজ আলোচনায় আছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের সময়সূচি, কারিগরি বোর্ডের ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ, ঢাকা বোর্ডের এসএসসি বৃত্তির তালিকা এবং বুটেক্সের স্নাতকোত্তর ভর্তির বিজ্ঞপ্তি।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এইচএসসির ফল, সম্ভাব্য তারিখ ২৯ অক্টোবর
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান মঙ্গলবার সকালে জানিয়েছেন, ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল দেওয়ার পরিকল্পনা আছে, তবে প্রস্তুতি মূলত ২৯ অক্টোবরকে ঘিরে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই ফলের চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত হবে। এবার পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই, শেষ হয় ৮ অগাস্ট। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কিছু লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি, সেগুলো শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার এগারোটি বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি প্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডে কেন্দ্র ছিল ৪৬১টি, পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন। কারিগরি বোর্ডে কেন্দ্র ৬১০টি, পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
একাদশে ভর্তি: তৃতীয় ধাপে আবেদন ২৬ ও ২৭ অক্টোবর
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় ও শেষ ধাপের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ২৬ অক্টোবর (সোমবার) থেকে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাত ৮টা পর্যন্ত। ফল প্রকাশ হবে ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত ৮টায়, আর ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে ৩১ অক্টোবর (শনিবার) রাত ৮টার মধ্যে। না করলে নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে।
মাইগ্রেশনের ফল আসবে ১ নভেম্বর (রোববার) রাত ৮টায়, আর কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি চলবে ২ ও ৩ নভেম্বর। আবেদন করতে হবে xiclassadmission.gov.bd পোর্টালে, কমপক্ষে ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠান বেছে নিয়ে। আবেদন ফি ২২০ টাকা; দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করেও যারা আসন পাননি, তাদের আবার ফি দিতে হবে না, শুধু লগইন করে পছন্দ হালনাগাদ করলেই চলবে। যারা আগেই ভর্তি নিশ্চিত করেছেন কিন্তু আবার আবেদন করতে চান, তাদের ২৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে নিজ শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে ভর্তি বাতিল করতে হবে।
২৬ বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল চায় কারিগরি বোর্ড
এইচএসসি (বিএমটি) কারিগরি কোর্স চালু থাকা ২৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করতে চায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি)। বোর্ডের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলো গত তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। অনুমোদনের শর্তে বলা আছে, টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করলে অনুমোদন বাতিল হবে। ২০২০ সালের নীতিমালার ৫.৪ ধারা অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন নিয়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিটিইবি ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম নোটিশ দিয়ে ১ অক্টোবরের মধ্যে কারণ জানাতে বলেছিল। ৪ অক্টোবর ওয়েবসাইটে দ্বিতীয় নোটিশ দিয়ে সাত কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান সাড়া না দেওয়ায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) তাগিদপত্র পাঠানো হয়েছে। বোর্ড ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে অনুমোদন প্রত্যাহার করতে চায়।
ঢাকা বোর্ডের এসএসসি বৃত্তির তালিকা প্রকাশ
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সোমবার (১৯ অক্টোবর) মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মেধাবৃত্তিতে মাসে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিতে মাসে ৩৫০ টাকা করে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বই ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য মেধাবৃত্তিতে বছরে ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিতে ৪৫০ টাকা এককালীন অনুদান মিলবে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে।
কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির সময় বাড়ল ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কোর্সে ভর্তির সময় বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত করা হয়েছে। ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আওতায় আছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা (ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি ও মৎস্য) এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দুই বছর মেয়াদি এইচএসসি (বিএম ও ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও সার্টিফিকেট ইন মেরিন ট্রেড।
বুটেক্সে স্নাতকোত্তর ভর্তির আবেদন শুরু ২৫ অক্টোবর
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ২০২৭ সেশনের নিয়মিত (পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন) এমএসসি কোর্সে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে ২৫ অক্টোবর, চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদন ফি ২ হাজার টাকা। ৪ ডিসেম্বর ১০০ নম্বরের লিখিত ভর্তি পরীক্ষা হবে, সময় দেড় ঘণ্টা। এতে বিভাগীয় বিষয়ে ৪০, সাধারণ টেক্সটাইল বিষয়ে ৪০ এবং ইংরেজিতে ২০ নম্বর থাকবে। ফল প্রকাশ হবে ১০ ডিসেম্বর।
প্রতিটি বিভাগে আসন ১৫টি। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সাতটি বিভাগে মোট ১০৫টি আসন আছে। এ ছাড়া এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাসটেইনেবিলিটি ইন টেক্সটাইলসে ১৫টি এবং টেক্সটাইল, ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড রিটেইলিংয়ে ১৫টি আসন রয়েছে। আবেদনের যোগ্যতা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেকনোলজিতে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি, সিজিপিএ কমপক্ষে ৩.০০ (৪.০০ এর মধ্যে) বা প্রথম শ্রেণি।
তথ্যসূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর, যুগান্তর, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, students.bd
KholaBoi শিক্ষা, পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভান্ডার
