সর্বশেষ খবর
জাতীয় ও স্থানীয় খবর — দেশ ও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা নজিরবিহীন ও বেআইনী, অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি সিইউজের

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনা সুরক্ষার অজুহাতে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নির্দেশনা জারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।

গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, স্কেচ, অবকাঠামোর ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এক বিবৃতিতে বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও প্রকাশের অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার স্বীকৃত এবং ৬ ধারায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।  

সিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা দেশের প্রচলিত আইন, পেশাগত নীতিমালা ও জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনা করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। কী তথ্য প্রকাশ করা যাবে আর কী যাবে না—এমন নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিশেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যখন জনমনে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও আন্দোলন চলছে, ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের নির্দেশনা জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বন্দর ঘনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত, পরিচালনা, চুক্তি, ইজারা, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।

সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ আরও বলেন, গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া বন্ধ করে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে না। বরং জনস্বার্থের তথ্য যত বেশি গোপন করার চেষ্টা করা হবে, তত বেশি সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে। নিরাপত্তার নামে সংবাদ প্রকাশ বন্ধের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা না করে বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আরো সমন্বিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। অবিলম্বে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন অস্পষ্ট ও নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ ।

একই সঙ্গে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তার নামে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের কোনো উদ্যোগ চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। জনস্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। বিজ্ঞপ্তি 

About The Author

খোলাবই বুকশপ এন্ড স্টেশনারিজ

পড়াশোনার সব উপকরণ এক জায়গায়

বই, খাতা, ডায়েরি, প্র্যাকটিক্যাল খাতা, ড্রয়িং ও স্টেশনারি — ঘরে বসে অর্ডার করুন। সারা দেশে ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা।

দোকানে যানকুপন KHOLABOI50 — ৳৫০০+ অর্ডারে ৳৫০ ছাড়

ডেলিভারি চার্জ: চট্টগ্রামে ৳৭৫ • সারা দেশে ৳১৫০  |  অর্ডার ও তথ্য: ০১৬১০৯৩৫৩৫৬

About Mizanur Rahman

Avatar

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।