চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পূর্ব পাশে সদ্য নির্মিত একটি বহুতল ভবনের গা ঘেঁষে এবং সামনের অংশ দিয়ে বিপজ্জনকভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো ও তার টেনে সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ভবন-মালিকদের অভিযোগ, বিষয়টি সমাধানে বারবার আবেদন করেও তাঁরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না; উল্টো ভবনের দুই পাশে দুটি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পূর্ব দিকে ভবনটি নির্মাণ করেন। নির্মাণকাজ চলাকালে নির্মাণকাজের প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মালিকরা পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ সমর্পণ করে ওয়াপদা (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড)-এর লাইন নিতে ইচ্ছুক।
এ লক্ষ্যে ভবনের পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পল্লী বিদ্যুতের হাটহাজারী জোনের ডিজিএম বরাবর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু ভবন-মালিকদের অভিযোগ, একাধিকবার ডিজিএমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরও তিনি আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেননি।

শুধু তা-ই নয়, ভবনের অভ্যন্তর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টেনে আশপাশের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন তাঁরা। এ বিষয়েও ডিজিএমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খুঁটিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই আবেদনটিও গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। উপরন্তু ভবনের দুই পাশে দুটি খুঁটি বসানো হয়েছে, যা ভবনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ভবন-মালিকদের ভাষ্য, সরেজমিন পরিদর্শন করলে একজন সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করবেন। এমনকি ওয়াপদার নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিন তদন্তে এসে খুঁটি ও তারের এই অবস্থাকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগ রয়েছে, উল্লিখিত ভবনের পাশে মোহাম্মদ জামশেদ নামের একজনের সীমানার ভেতরেও একটি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। তিনিও খুঁটিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এ ব্যাপারেও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ।
ভবন-মালিকরা আরও জানান, শুধু এই ভবনই নয়, আশপাশের অনেক ভবনের সামনেই বিপজ্জনকভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি ও তার অপসারণ এবং সংযোগ স্থানান্তরের আবেদন যথাযথভাবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
KholaBoi শিক্ষা, পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভান্ডার