ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০২৬। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ১১ নভেম্বর থেকে, এমনটাই জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ২০২৬ সালের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের নতুন পদ্ধতি এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনাসহ সাম্প্রতিক শিক্ষা-সংবাদের সারসংক্ষেপ থাকছে আজকের এই প্রতিবেদনে।
ঢাবি ভর্তি: আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির অনলাইন আবেদন চলবে ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর আইবিএ ইউনিট দিয়ে। এরপর ১২ ডিসেম্বর বিজ্ঞান (ক), ১৯ ডিসেম্বর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান (খ), ২২ ডিসেম্বর চারুকলা এবং ২৬ ডিসেম্বর ব্যবসায় শিক্ষা (গ) ইউনিটের পরীক্ষা হবে। মোট নম্বর ১২০; এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ১০০ এবং এসএসসি-এইচএসসির ফলাফলের ২০। প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হতে পারে ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ। তবে এসব তথ্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি; তাই আবেদনের আগে du.ac.bd দেখে নেওয়া ভালো।
নতুন পাঠ্যবই ২০২৬ সালের মধ্যেই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ ২০২৭ সালে গড়াবে না, ২০২৬ সালের মধ্যেই বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বইয়ের মান নিয়ে কোনো আপস হবে না, বই হবে মানসম্মত ও আকর্ষণীয়, এমনও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চারটি নতুন বই তৈরি হয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ঐচ্ছিক একটি ট্রাফিক-বিষয়ক বইয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
এসএসসি ২০২৭ শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন
সরকার ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঠিক করেছে ৭ জানুয়ারি, আর এইচএসসির জন্য ৬ জুন—১৫ মে প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এ তথ্য আছে। তবে একই সময়ে প্রকাশিত আরেকটি শিরোনামে ভিন্ন সমাপ্তির তারিখের কথা (এসএসসি ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, এইচএসসি ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে) এসেছে। কিছু অনলাইন সাইটে আবার ভিন্ন তারিখের রুটিন ঘুরছে। তাই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরামর্শ, নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত ধরুন।
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন: গণবিজ্ঞপ্তি বন্ধ, নেওয়া হবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা
বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে আর এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদ লাগবে না। প্রতিটি শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি ধরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হবে, গণবিজ্ঞপ্তির ব্যবস্থা বাতিল হচ্ছে। পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ও ২০ নম্বরের মৌখিক মিলিয়ে মোট ২২০ নম্বরে; পাস নম্বর ৪০ শতাংশ। আসন্ন পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি পদ পূরণ করা হবে, যার মধ্যে সহকারী শিক্ষকের পদই ৪৪ হাজার ৬৯১টি। এনটিআরসিএর সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক জানিয়েছেন, এখন থেকে সরাসরি নিয়োগ হবে বলে আগের জটিলতা আর থাকবে না। ২১ এপ্রিল প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে।
৬৭০টি নতুন স্কুল, কলেজ ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করবে সরকার
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৬৭০টি নতুন স্কুল, কলেজ ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন। ১৪ জুন ঢাকার শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফের এক কর্মশালায় তিনি এটিকে সরকারের অন্যতম বড় শিক্ষা উদ্যোগ বললেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত উপবৃত্তি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষা চালু হবে।
প্রাথমিকে নতুন শিক্ষাক্রম ২০২৮ সালে, উদ্বেগ শিখন দক্ষতা নিয়ে
প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রম পাবে ২০২৮ সালে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষাক্রমের নকশা এক বছরের মধ্যে হবে এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ হবে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে। এর আগে ৮ মে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৬৫ শতাংশ বাংলায় ‘নভিস’ বা প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ ভবনে জরুরি মেরামত দরকার।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, শিক্ষাবার্তা ডট কম, আজকের প্রসঙ্গ, সময়ের কণ্ঠস্বর, শিক্ষাওয়েব।
KholaBoi শিক্ষা, পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভান্ডার
