সর্বশেষ খবর
ডোমেইন নাম বাছাই — নিজেই বানান ওয়েবসাইট পর্ব ২

ডোমেইন নাম বাছাই: .com, .info না .com.bd? ভালো নামের নিয়ম আর বিটিসিএল থেকে .bd ডোমেইন — নিজেই বানান ওয়েবসাইট, পর্ব ২

নিজেই বানান ওয়েবসাইট — পর্ব ২। আগের পর্ব: ওয়েবসাইট কেন দরকার, খরচ কত? · সিরিজের সব পর্ব একসঙ্গে পাবেন মূল পাতায়।

খোলাবই পরিবারের সবাইকে স্বাগত জানাই “নিজেই বানান ওয়েবসাইট” সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে। গত পর্বে আমরা দেখেছি একটা ওয়েবসাইট কেন দরকার আর বছরে আসলে কত টাকা লাগে। আজ শুরু করছি একেবারে প্রথম সিদ্ধান্ত দিয়ে — ডোমেইন নাম। এই সিদ্ধান্তটা একবারই নেওয়া হয়; পরে বদলাতে গেলে ভিজিটর, গুগলের র‍্যাংকিং, ছাপানো প্যাড-ভিজিটিং কার্ড — সব নতুন করে শুরু করতে হয়। তাই আজকের পর্বটা একটু সময় নিয়ে পড়ুন।

ডোমেইন নাম আসলে কী

ডোমেইন নামের দুটো অংশ। ডট-এর আগে নাম (যেমন kholaboi), আর ডট-এর পরে এক্সটেনশন বা TLD (যেমন .info, .com, .com.bd)। নাম আপনার পরিচয়, এক্সটেনশন বলে দেয় আপনি কোন জগতের। সামনে www থাকুক বা না থাকুক, দুটোই একই ঠিকানায় যায় — এটা পরে সেটিংসের ব্যাপার।

১. কোন এক্সটেনশন নেবেন

.com: পৃথিবীর সবচেয়ে চেনা এক্সটেনশন। মানুষ অভ্যাসবশত ঠিকানার শেষে .com-ই টাইপ করে। যদি পছন্দের নামে .com খালি থাকে, দ্বিধা না করে নিয়ে নিন। দাম বছরে মোটামুটি ১,২০০–১,৬০০ টাকা।

.info, .org, .net: .com না পেলে এগুলো ভালো বিকল্প। শিক্ষামূলক বা তথ্যভিত্তিক সাইটে .info মানানসই, সংগঠন-সমিতিতে .org। খেয়াল রাখবেন — প্রথম বছরের ছাড়ের দামের চেয়ে রিনিউয়ালের দাম প্রায়ই অনেক বেশি; অর্ডারের আগে দুটোই দেখে নিন।

.xyz, .site, .online ইত্যাদি: প্রথম বছর দুই-তিনশো টাকায় পাওয়া যায় বলে লোভনীয় লাগে। কিন্তু অনেক মানুষ এগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখে, স্প্যাম ফিল্টারেও মাঝে মাঝে আটকায়, আর দ্বিতীয় বছর থেকে দাম কয়েকগুণ। প্রতিষ্ঠানের জন্য এড়িয়ে চলাই ভালো।

.bd পরিবার — .com.bd, .edu.bd, .org.bd, .ac.bd: এগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব এক্সটেনশন, নিয়ন্ত্রণ করে বিটিসিএল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য .edu.bd আলাদা মর্যাদা বহন করে — ঠিকানা দেখেই বোঝা যায় এটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান; আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ঠিকানাও .edu.bd-তে। ব্যবসার জন্য .com.bd, সংগঠনের জন্য .org.bd। অসুবিধা একটাই: কাগজপত্র লাগে, আর প্রক্রিয়াটা আন্তর্জাতিক এক্সটেনশনের মতো দু-মিনিটের নয়। বাংলায় .বাংলা ডোমেইনও আছে, তবে দৈনন্দিন ব্যবহারে মানুষ এখনো ইংরেজি ঠিকানায় স্বচ্ছন্দ।

আমার অভিজ্ঞতা

খোলা বই-এর জন্য আমি প্রথমে kholaboi.info নিয়েছিলাম — শিক্ষা ও তথ্যের সাইট, .info মানিয়ে যায়, আর তখন সেটাই সহজলভ্য ছিল। পরে যখন বইয়ের দোকানটা অনলাইনে আনলাম, kholaboi.com-টাও নিয়ে রাখলাম, যাতে একই নামে অন্য কেউ দোকান খুলে বসতে না পারে। শিক্ষা হলো: পছন্দের নামের প্রধান দু-একটা এক্সটেনশন একসঙ্গে নিয়ে রাখা ভালো — বছরে হাজার-বারোশো টাকার বিনিময়ে নামটা আপনার থাকে।

২. ভালো নামের সাতটি নিয়ম

ছোট রাখুন: যত কম অক্ষর, তত সহজে মনে থাকে আর মোবাইলে টাইপ করা যায়। দুই শব্দের বেশি না হলেই ভালো।

বলার সঙ্গে সঙ্গে লেখা যায় এমন: কাউকে ফোনে ঠিকানাটা বললে সে যেন প্রথমবারেই ঠিকমতো লিখতে পারে। বাংলা শব্দের ইংরেজি বানান নিয়েই সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয় — khola boi না kholaboi, bidyalaya না biddaloy? যে বানানটা মানুষ স্বাভাবিকভাবে লিখবে, সেটাই নিন; সম্ভব হলে বিকল্প বানানটাও কিনে মূল ঠিকানায় ঘুরিয়ে দিন।

হাইফেন ও সংখ্যা এড়িয়ে চলুন: abc-school.com বা school24.com মুখে বলতে গেলে প্রতিবার ব্যাখ্যা করতে হয় — “ড্যাশ দিয়ে”, “চব্বিশ সংখ্যায়”। প্রতিষ্ঠিত নামের অংশ না হলে বাদ দিন।

নিজের আসল নামই রাখুন: প্রতিষ্ঠানের নামের আদ্যক্ষর (যেমন bpsc) অনেক সময় একই আদ্যক্ষরের আরও দশটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে যায়। পুরো নামের সংক্ষিপ্ত রূপ + জায়গার নাম (যেমন bepzacollegectg) অনেক নির্ভুলভাবে আপনাকে চেনায়।

অন্যের ব্র্যান্ড নয়: বিখ্যাত কোনো প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের নাম নিজের ডোমেইনে ঢোকাবেন না — আইনি জটিলতা তো আছেই, গুগলও সন্দেহ করে।

ভবিষ্যৎ ভাবুন: কোচিংয়ের নাম আজ “একাদশ কোচিং” হলেও দু-বছর পর নবম-দশমও পড়াতে পারেন। নামটা যেন বড় হওয়ার জায়গা রাখে।

সামাজিক মাধ্যমে একই নাম খালি কি না দেখুন: ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল আর ডোমেইন — তিন জায়গায় একই নাম থাকলে মানুষের মনে রাখতে সুবিধা।

৩. নাম খালি আছে কি না, কীভাবে দেখবেন

যেকোনো রেজিস্ট্রারের সাইটে (দেশি বা বিদেশি) একটা সার্চ বক্স থাকে — নাম লিখলেই দেখায় কোন এক্সটেনশনে খালি, কোনটা নেওয়া। একটা বাস্তব পরামর্শ: পছন্দের নাম খালি পেলে সেদিনই নিয়ে নিন। “আগে ভেবে দেখি” বলে সপ্তাহখানেক পর ফিরে গিয়ে নামটা আর না পাওয়ার ঘটনা আমি একাধিকবার দেখেছি। ডোমেইন কেনা আর হোস্টিং কেনা আলাদা কাজ — নামটা আজ নিয়ে রাখলে সাইট পরে বানালেও চলে।

নেওয়া ডোমেইনের মালিক কে, মেয়াদ কবে শেষ — whois সার্চে (যেমন who.is বা lookup.icann.org) জানা যায়। কোনো নাম পছন্দ অথচ নেওয়া হয়ে গেছে — মেয়াদ শেষের তারিখটা নোট রাখুন; অনেক ডোমেইন রিনিউ না হয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

৪. বিটিসিএল থেকে .bd ডোমেইন — ধাপে ধাপে

বিটিসিএল-এর ডোমেইন পোর্টাল bdia.btcl.com.bd। প্রক্রিয়াটা মোটামুটি এ রকম:

  1. পোর্টালে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন (নাম, মোবাইল, ইমেইল, এনআইডি)। অ্যাকাউন্টটা প্রতিষ্ঠানের নিজের ইমেইল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির নামে খুলুন — কোনো দোকানের বা পরিচিত ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে নয়।
  2. কাঙ্ক্ষিত নামটি সার্চ করে খালি আছে কি না দেখুন; এক্সটেনশন বাছুন (.edu.bd / .com.bd / .org.bd ইত্যাদি)।
  3. আবেদন ফরম পূরণ করুন। .edu.bd-র জন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন বা অনুমোদনপত্র, .com.bd-র জন্য ট্রেড লাইসেন্স জাতীয় কাগজ চাওয়া হয়। কোন এক্সটেনশনে ঠিক কী কাগজ লাগবে, তা আবেদনের সময় পোর্টালেই দেখিয়ে দেয় — স্ক্যান কপি পিডিএফ বা ছবিতে হাতের কাছে রাখুন।
  4. ফি পরিশোধ করুন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিটিসিএল দাম কমিয়েছে: তৃতীয় স্তরের ডোমেইন (যেমন abc.com.bd) রেজিস্ট্রেশন বছরে ৭০০ টাকা, রিনিউয়াল ১,০২০ টাকা; দ্বিতীয় স্তরের (abc.bd) রেজিস্ট্রেশন ১,২৮০, রিনিউয়াল ১,৬০০ টাকা — সবগুলোর সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত হবে। পেমেন্ট মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডে অনলাইনেই করা যায়।
  5. বিটিসিএল আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দেয় — আন্তর্জাতিক ডোমেইনের মতো সঙ্গে সঙ্গে নয়, কয়েক কর্মদিবস লাগতে পারে। অনুমোদনের পর পোর্টাল থেকেই নেমসার্ভার বসাতে পারবেন (সেটা পর্ব ৪-এ)।

একটা জরুরি কথা: .bd ডোমেইনের রিনিউয়াল বিটিসিএল-এর পোর্টালেই করতে হয়, আপনার হোস্টিং কোম্পানির বিলের সঙ্গে আসবে না। তাই মেয়াদ শেষের তারিখটা ক্যালেন্ডারে তুলে রাখুন — এ নিয়ে পর্ব ১০-এ আবার বলব।

৫. কোথা থেকে কিনবেন: দেশি না বিদেশি

দেশি রেজিস্ট্রার (যেমন ExonHost, বা অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি কোম্পানি): বিকাশ-নগদ-কার্ডে টাকায় পেমেন্ট, বাংলায় সাপোর্ট, আর হোস্টিং একই অ্যাকাউন্টে নিলে নেমসার্ভার নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায় — নতুনদের জন্য সবচেয়ে কম ঝামেলার পথ।

বিদেশি রেজিস্ট্রার (Namecheap, Cloudflare, Porkbun ইত্যাদি): দাম মাঝে মাঝে কিছুটা কম, কিন্তু ডলারে পেমেন্টের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড লাগে, আর সমস্যায় পড়লে ইংরেজিতে টিকিট। অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্য ভালো; প্রথম সাইটের জন্য দরকার নেই।

যেখান থেকেই কিনুন, দুটো জিনিস চালু রাখুন: WHOIS Privacy (নইলে আপনার ফোন-ইমেইল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, স্প্যাম কলের বন্যা আসে) আর Auto-renew।

এক নজরে: ডোমেইন বাছাইয়ের চেকলিস্ট

☐ নামটা ছোট, উচ্চারণে স্পষ্ট, বানানে দ্বিধাহীন

☐ হাইফেন বা সংখ্যা নেই, অন্যের ব্র্যান্ড নেই

☐ .com খালি থাকলে .com; প্রতিষ্ঠান হলে পাশাপাশি .edu.bd / .com.bd-র কথা ভাবুন

☐ ফেসবুক-ইউটিউবে একই নাম খালি কি না দেখেছি

☐ রিনিউয়ালের দাম দেখে নিয়েছি, শুধু প্রথম বছরের ছাড় নয়

☐ অ্যাকাউন্টটা প্রতিষ্ঠানের নিজের ইমেইলে, মালিকানা আমার

☐ WHOIS Privacy ও Auto-renew চালু

আজকের পর্ব এখানেই। নাম ঠিক হলে পরের কাজ সেই নামের জন্য একটা “ঘর” ভাড়া নেওয়া — অর্থাৎ হোস্টিং। শেয়ার্ড, রিসেলার না ভিপিএস, দেশি না বিদেশি, কোন জিনিসগুলো দেখে কিনবেন আর আমি নিজে কী ব্যবহার করি — সব থাকছে পরের পর্বে। আপনার পছন্দের নাম নিয়ে দ্বিধা থাকলে মন্তব্যে লিখুন, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। লেখাটি কাজে লাগলে পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

পরের পর্বে

পর্ব ৩: হোস্টিং বোঝা ও বাছাই — প্রকাশিত হবে ১ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার রাত ৮টায়। প্রকাশের পর সিরিজের মূল পাতায় লিংক পাবেন।

← আগের পর্ব: ওয়েবসাইট কেন দরকার, খরচ কত?

About The Author

খোলাবই বুকশপ এন্ড স্টেশনারিজ

পড়াশোনার সব উপকরণ এক জায়গায়

বই, খাতা, ডায়েরি, প্র্যাকটিক্যাল খাতা, ড্রয়িং ও স্টেশনারি — ঘরে বসে অর্ডার করুন। সারা দেশে ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা।

দোকানে যানকুপন KHOLABOI50 — ৳৫০০+ অর্ডারে ৳৫০ ছাড়

ডেলিভারি চার্জ: চট্টগ্রামে ৳৭৫ • সারা দেশে ৳১৫০  |  অর্ডার ও তথ্য: ০১৬১০৯৩৫৩৫৬

About Admin

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।