ঢাকা, ৩ নভেম্বর ২০২৬। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল নিয়ে আলোচনাতেই কাটছে শিক্ষাঙ্গনের এই সপ্তাহ। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলে নয়টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৫১.৬২ শতাংশে, যা ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন চলছে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত, আর সরকারি কলেজগুলোর কাছে বিষয়ভিত্তিক তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
এইচএসসিতে পাসের হার ২২ বছরে সবচেয়ে কম, ৫১.৬২ শতাংশ
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১.৬২ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫৭.১২ শতাংশ। ২২ বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে খারাপ ফল। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন, গত বছর যা ছিল ৬৩ হাজার ২১৯ জন। অর্থাৎ এক বছরেই জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলে রাজশাহী ৪৫.০৬, কুমিল্লা ৪৮.০৪ ও সিলেটে ৫০.৯ শতাংশ
বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে পাসের হার ৪৫.০৬ শতাংশ আর কুমিল্লায় ৪৮.০৪ শতাংশ। সিলেট বোর্ডে পাসের হার নেমেছে ৫০.৯ শতাংশে, যা ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। গত বছরের তুলনায় এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। ৩৫৪টির জায়গায় এবার ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। অন্যদিকে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এবারও পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে, তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় এগিয়ে ছাত্ররা।
নটর ডেম কলেজে জিপিএ-৫ ২ হাজার ২২৯, তবে গত বছরের চেয়ে কম
ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এবার ৩ হাজার ২৭২ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ হাজার ২৫৬ জন, পাস করেছে ৩ হাজার ২১৮ জন। পাসের হার ৯৮.৮৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৯৯.৬০ শতাংশ। কলেজটির ২ হাজার ২২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই সংখ্যা মোট ১১টি বোর্ডের মধ্যে পাঁচটির প্রত্যেকটির চেয়ে বেশি। তবে গত বছরের ২ হাজার ৪৫৪ জনের তুলনায় এবার ২২৫ জন কম জিপিএ-৫ পেয়েছে। বোর্ডগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৩৭ জন, কুমিল্লায় ১ হাজার ৩১৩ জন, সিলেটে ১ হাজার ২০৪ জন, বরিশালে ৯৫০ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৮৮৬ জন।
ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত, ফি পত্রপ্রতি ১৫০ টাকা
ফলে সন্তুষ্ট নন, এমন পরীক্ষার্থীরা খাতা পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারছেন। আবেদনের শেষ তারিখ ৭ নভেম্বর। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি ১৫০ টাকা। আবেদন করার আগে ফলাফলের কপি ও বোর্ডের নির্দেশনা ভালোভাবে দেখে নেওয়া ভালো।
ফল প্রকাশের তারিখ দুই দিন পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর হয়েছিল
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রথমে ২৯ অক্টোবর প্রকাশের কথা ছিল। পরে তা দুই দিন পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর করা হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান নতুন তারিখ নিশ্চিত করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সূত্রের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেতে জটিলতার কারণে ফল পিছিয়েছে। তবে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এই ধারণা নাকচ করে বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই, ১১টি বোর্ডে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা পিছিয়ে যায়, ফলে সেখানে লিখিত পরীক্ষা চলে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
সরকারি কলেজের অনুমোদিত বিষয়ের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর
অধীন সরকারি কলেজগুলোতে কোন কোন বিষয় পড়ানো হচ্ছে, সেই তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ২০১৮ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদ সৃজনের জন্য এই তথ্য দরকার। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিষয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনপত্র, আর ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্সের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনপত্র দিতে হবে। ২ নভেম্বর জারি করা নোটিশে সব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে কাগজপত্রের হার্ডকপি পাঠাতে বলা হয়েছে। কাগজ পাঠাতে হবে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এইচআরএম) এর কাছে, ঢাকার ৫৩০ নম্বর কক্ষে। নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন উপপরিচালক মো. শওকত হোসেন মোল্লা।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪ ডটকম, শিক্ষাবার্তা ডটকম।
KholaBoi শিক্ষা, পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভান্ডার
