চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী এবং কবি নজরুলের চট্টগ্রামে আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এক সেমিনার আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০.৩০টায় চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের তারুণ্যের কবি, বিদ্রোহের কবি, সাম্যের কবি, মানবতার কবি এবং দেশপ্রেমের কবি। কখনো তাঁর কবিতায় আমরা বিদ্রোহের চেতনা খুঁজে পাই, কখনো পাই অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার বার্তা, আবার কখনো তাঁর গান ও কবিতা আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। তাই নজরুলকে কোনো একটি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নজরুলের যে দেশপ্রেম, সাম্য, মানবিকতা, সাহস ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা—এসব যদি আমরা ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজ আরও মানবিক ও সুন্দর হবে। উপাচার্য বলেন, আমাদের সাম্প্রতিক গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সময়ও নজরুলের গান ও কবিতা তরুণদের প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর রণসংগীত ও বিদ্রোহের চেতনা আমাদের সাহসী করেছে।
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, নজরুলের মধ্যে আমরা যেমন একজন বিদ্রোহী কবির আবির্ভাব দেখতে পাই, তেমনি বঙ্গভঙ্গের সময় হিন্দু-মুসলমানকে বিভাজনের রাজনীতিতে যখন সমাজকে কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখনও নজরুল তাঁর লেখনী দিয়ে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। তিনি ছিলেন স্বাধিকার আন্দোলনের এক মূর্ত প্রতীক। পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি তার অধিকার ও স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছে, সেখানেই বিদ্রোহী কবি, দ্রোহের কবি, ভালোবাসার কবি ও প্রেমের কবি নজরুলের উপস্থিতি আমরা অনুভব করেছি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড কালচার-এর ডিন প্রফেসর ইরশাদ আহমেদ শাহীন। পরবর্তীতে আলোচনা পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন ও চবি

বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ। অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক হাফিজ রশিদ খান। আলোচনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী তনুশ্রী দাস।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, গবেষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাহমিদা ফাহা ও উম্মে কুলসুম।-বিজ্ঞপ্তি
KholaBoi শিক্ষা, পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভান্ডার