
বিশেষ প্রতিনিধি : লোহাগাড়ার পদুয়া তুলাতলী এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের কোন সংযোগ ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন সাততলা একটি ভবনের বাসিন্দারা। সৌরশক্তির মাধ্যমে ভবনেই উৎপাদিত হচ্ছে ১৫ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ।
১৪টি ফ্ল্যাট ও লিফটসহ পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে এই সোলার সিস্টেম থেকে। ভবনের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পরও বর্তমানে বাইরে সরবরাহ করার মতো বিদ্যুৎও মজুত থাকছে বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তা। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে।
ভবনটির মালিক তরুণ উদ্যোক্তা জিয়া উদ্দীন বাবলুর এই উদ্যোগ ও সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক ভবন মালিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাপ কমবে।
জানা যায়, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া এ সি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে আছে সাততলা ভবনটি। ভবনের ছাদে সারি সারি সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়েই চলছে পুরো ভবন।
উদ্যোক্তা জিয়া উদ্দীন বাবলু বলেন, ভবন নির্মাণের পর পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেও সফল হয়নি। এরপর বিকল্প চিন্তা করতে গিয়ে সৌরবিদ্যুতের কথা মাথায় আসে। অনেক বিচার-বিশ্লেষণের পর সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিই।
তিনি আর বলেন, ‘স্থাপনের আগে যতটা ভেবেছিলাম, এখন তার চেয়েও ভালো ফল পাচ্ছি। সোলার সিস্টেম চালুর পর থেকে আজ পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের কোনো প্রয়োজন হয়নি। প্রতিদিনের চাহিদা সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমেই পূরণ হচ্ছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, এত বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পুরো ভবন চালানো সম্ভব হবে না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই সিস্টেমটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, “আমি চাই লোহাগাড়ার মানুষ জানুক, পর্যাপ্ত বাজেট ও পরিকল্পনা থাকলে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমবে।’
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো সম্ভব। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যায়। বাংলাদেশেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটি অন্যতম সম্ভাবনাময় শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পদুয়ায় সফল এই উদ্যোগ অন্য ভবন মালিকদেরও সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।’
KholaBoi শিক্ষা, পরীক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভান্ডার