সর্বশেষ খবর

কলেজে ভর্তিতে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা কেন?

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন প্রায় ২৫ লাখ। এর বিপরীতে ভর্তির জন্য প্রথম দফায় আবেদন করেছে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী। ফলে মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি আসন যে ফাঁকা থাকছে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে তিন লাখের বেশি। অথচ প্রথম দফায় আবেদন করেছে মাত্র ৯৩ হাজার শিক্ষার্থী। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আসন সংখ্যা দেড় লাখের কিছু বেশি হলেও এ বছর ওই বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে ৪৪ হাজার ৫৫৫ জন। অর্থাৎ কয়েকটি বোর্ডের চিত্রই বলে দিচ্ছে, অনেক কলেজে শিক্ষার্থী সংকট কতটা তীব্র হতে যাচ্ছে। কলেজে ভর্তিতে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা কেন?
এর মূল কারণ খুঁজতে গেলে প্রথমেই আসে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট আসনের তুলনায় অনেক কম।
তবে শুধু কম পাসের হার দিয়ে এ সংকটের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই কলেজে আসন বাড়লেও সেই অনুপাতে শিক্ষার্থী বাড়েনি। বরং কিছু এলাকায় শিক্ষার্থী কমছে। গত শিক্ষাবর্ষে চার দফায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ার পরও মাত্র ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। ফলে ১০ লাখের বেশি আসন খালি ছিল।
এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে অপরিকল্পিতভাবে কলেজের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজন না থাকলেও অনেক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরা যেমন সংকটে পড়ছেন, তেমনি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সরকারের অর্থও ব্যয় হচ্ছে।
আবার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট কিছু কলেজে ভর্তি হতে চায়। ভালো ফলাফল, দক্ষ শিক্ষক, ব্যবহারিক ক্লাস ও শিক্ষার পরিবেশের কারণে নামী কলেজগুলোর প্রতি আগ্রহ বেশি। বিপরীতে অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে চায় না। ফলে একই সময়ে কোথাও আসনের তুলনায় কয়েক গুণ আবেদন পড়ছে, আবার কোথাও শ্রেণিকক্ষই ফাঁকা থাকছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শহরমুখী জনসংখ্যার প্রবণতা। গ্রাম থেকে শহরে মানুষের স্থানান্তরের কারণে অনেক এলাকার কলেজে শিক্ষার্থী কমছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সংকট বেশি দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষার্থী কমে গেলে সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে বেসরকারি কলেজগুলোর ওপর। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের বড় অংশ আসে ভর্তি ও বেতন থেকে। শিক্ষার্থী কমলে আয় কমে যায়, ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণসহ নিয়মিত ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই এখন প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুলসংখ্যক আসন কি কমানো হবে, নাকি দুর্বল কলেজগুলোর মান বাড়িয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে?
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে কলেজ বাড়ানোর ফলেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সমস্যার সমাধানে নীতিগতভাবে কঠোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কলেজ অনুমোদনের আগে এলাকার শিক্ষার্থীসংখ্যা, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের আসন, শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষার মান বিবেচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্বল কলেজগুলোর মানোন্নয়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী আসন পুনর্নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী না থাকা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নইলে একদিকে ভালো কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ যেমন অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে দেশের বহু কলেজে প্রতিবছর খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

About The Author

খোলাবই বুকশপ এন্ড স্টেশনারিজ

পড়াশোনার সব উপকরণ এক জায়গায়

বই, খাতা, ডায়েরি, প্র্যাকটিক্যাল খাতা, ড্রয়িং ও স্টেশনারি — ঘরে বসে অর্ডার করুন। সারা দেশে ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা।

দোকানে যানকুপন KHOLABOI50 — ৳৫০০+ অর্ডারে ৳৫০ ছাড়

ডেলিভারি চার্জ: চট্টগ্রামে ৳৭৫ • সারা দেশে ৳১৫০  |  অর্ডার ও তথ্য: ০১৬১০৯৩৫৩৫৬

About Mizanur Rahman

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

টুলবার পরিহার করুন