সর্বশেষ খবর

চুয়েটে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ মূল ফটকে তালা

উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে অবস্থা নেয়।

# উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
# আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা চুয়েট শিক্ষক সমিতির

উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে রাউজানে অবস্থিত এই প্রকৌশল বিদ্যাপীঠে সদ্য অপসারিত উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত আন্দোলনে সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ ঘোষণা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার কারণে মঙ্গলবার ভোর থেকেই কোনো বিভাগের ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আন্দোলনকারীরা জানান, সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের পদত্যাগ এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এ প্রতিবাদ কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার রাতে, যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছায়। প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ এর মাত্র ৫৬ দিন আগে, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চার বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রজ্ঞাপনে সরকারের পক্ষ থেকে হঠাৎ এমন রদবদলের কোনো কারণ দর্শানো হয়নি। কোনো প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন কিংবা দৃশ্যমান ব্যর্থতা ছাড়াই হুট করে উপাচার্য অপসারণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে অসন্তোষের দাবানল জ্বলে ওঠে। চুয়েটের কেন্দ্রীয় স্বাধীনতা চত্বর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা মুহূর্তেই বিশাল গণমিছিলে রূপ নেয়। সাধারণ নিয়মে রাত ৮টার পর চুয়েটের ছাত্রী হলগুলোর ফটক বন্ধ থাকলেও, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে রাত ১১টার দিকে তালা ভেঙে বের হয়ে আসেন শত শত ছাত্রী। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, ছাত্রী হল এবং শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও উপাচার্য ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরদিন গতকাল সকাল ৮টা থেকেই শিক্ষার্থীরা চুয়েটের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে না পারেন, সেজন্য প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে পাহারা বসান আন্দোলনকারীরা। বেলা সাড়ে ১২টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা চলমান আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এতে বলা হয়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মেডিকেল সেন্টার ও নিরাপত্তা শাখা ছাড়া ক্যাম্পাসের সব একাডেমিক ল্যাব, শ্রেণি কার্যক্রম, টার্ম পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ বন্ধ থাকবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই মাসেই অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলেছিলেন। উপাচার্যের কার্যালয়ের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন আটকে থাকা সেশনজট ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছিলেন। এমন একজন সৎ ও স্পষ্ট লক্ষ্যসম্পন্ন অভিভাবককে হঠাৎ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া সরিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মঙ্গলবার ভিসি অফিসের সামনে সমাবেশ ও পরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম নিজেই। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে তা তাঁর কল্পনার বাইরে ছিল। অপসারণের দিন দুপুর পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত দুই মাসে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছিলেন।
অন্যদিকে, এমন পদক্ষেপে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসান উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘এভাবে খেয়ালখুশিমতো প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন স্বায়ত্তশাসিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে, যার সরাসরি খেসারত দিতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের।’
গতকাল আন্দোলন চলাকালেই দুপুরে একটি গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘিরে ধরে সাড়ম্বরে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান। পরিস্থিতি সম্পর্কে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘চুয়েটের চলমান আন্দোলন ঘিরে যাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কিংবা রাউজানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেদিকে আমাদের তীক্ষè নজর রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চুয়েট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।’

 

 

<

p style=”text-align: justify”> 

About The Author

খোলাবই বুকশপ এন্ড স্টেশনারিজ

পড়াশোনার সব উপকরণ এক জায়গায়

বই, খাতা, ডায়েরি, প্র্যাকটিক্যাল খাতা, ড্রয়িং ও স্টেশনারি — ঘরে বসে অর্ডার করুন। সারা দেশে ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা।

দোকানে যানকুপন KHOLABOI50 — ৳৫০০+ অর্ডারে ৳৫০ ছাড়

ডেলিভারি চার্জ: চট্টগ্রামে ৳৭৫ • সারা দেশে ৳১৫০  |  অর্ডার ও তথ্য: ০১৬১০৯৩৫৩৫৬

About Mizanur Rahman

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

টুলবার পরিহার করুন